Sunday, 12 April 2020

তারাবি কি বিদ্যুৎ গতিতেই চলবে?

হ্যাঁ সিস্টেমটা পরিবর্তন হওয়া দরকার! এইযে তারাবির সময় বিদ্যুতগতিতে কুরআন তিলাওয়াত এই সিস্টেমটা। আমরা বাংলা ভাষার মানুষ আরবি বুঝি না কিন্তু কুরআন তিলাওয়াতের সময় শব্দগুলো এবং বাক্যগুলোও যদি না বুঝতে পারি তাহলে হৃদয়ে প্রভাব পড়বে কীভাবে? তীব্র গতির কারণে নিজেদের মুখস্থ সূরাগুলোও মাঝে মাঝে অচেনা মনে হয়। এ যেন এক বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্প, হঠাৎ করে যার শুরু আবার হঠাৎ করেই শেষ। খোঁজ নিয়ে দেখেন এইরকম খুতমে কুরআনের ফলে সবার মনেই একটা অতৃপ্তি থেকে যায়। কিন্তু নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল এই টাইপের একটা স্বান্ত্বনা পাওয়া যায় মাত্র।
যেসকল মসজিদে ধীরে ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় সেখানে মুসল্লি কিন্তু কমে যায় না, সওয়াবও কমে না, সময়ও কিন্তু আহামরি বেশি লাগে না। তাহলে কেন মুসল্লিদের বঞ্চিত করা হয়? অথবা ৩০-৪০ মিনিট বেশি লাগে বলে কেনইবা ইমামদেরকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কথা শুনাবেন? এটা একটা অশুভ লক্ষণ সমাজের জন্য।

মাসব্যাপী ইবাদত, সম্পূর্ণ কুরআন দাঁড়িয়ে থেকে শুনার সুযোগ বছরে এই একটামাত্র মাসেই আসে। অন্য সময় চাইলেও বাস্তবতার কারণে হয়ে ওঠে না, ব্যক্তিগতভাবে পড়া হয় না। সওয়াব অর্জন আর গুনাহ বর্জনের এ মাসে যতটুকু সুযোগ হয় ততটুকুই হক আদায় করা উচিৎ।

অল্প কয়েকদিন পেছনে তাকালেই দেখা যাবে ঐ সময়ে খতমে তারাবি খুব বেশি মসজিদে হত না। কিন্তু সামান্য সময়ের ব্যবধানে এখন প্রায় সকল মসজিদেই খতমে তারাবি হয়, আলহামদুলিল্লাহ। খতমে তারাবি না হওয়াটা এখন একটা মহল্লা বা সমাজের প্রেস্টিজের ব্যাপার! এখন কিছু কিছু মসজিদে খুব ধীরে সুস্থে তিলাওয়াত করা হয় কিন্তু সেই সংখ্যাটা অনেক কম। আগামীদিন খতমে তারাবি সকল মসজিদে তারতীল সহকারে পড়া হবে ইনশাআল্লাহ। তবে সে জন্য আপনার আমার একটু সিদ্ধান্ত দরকার, একটু সচেতনতা দরকার, একটু আলোচনা দরকার।

সকল মসজিদ কমিটির প্রতি আহবান তারা যেন এমন হাফেজে কুরআন নিয়োগ দেন যারা ধীরে সুস্থে তিলাওয়াত করবে। মুসল্লিদের প্রতি আহবান আপনারা আপনাদের ইমামদের বলে দেন তারা যেন তারতিল সহকারে ধীরে ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করেন।

আমরা চাই মানুষ কুরআন শুনে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করুক, আমরা চাই মানুষ কুরআন বুঝুক, আমরা চাই কুরআনের প্রভাব মানুষের মনে পড়ুক, আমরা চাই মানুষ কুরআনকে ভালবাসুক, আমরা চাই মানুষ কুরআন পড়ুক, আমরা চাই মানুষ কুরআন দিয়ে জীবন পরিচালিত করুক। আল্লাহুম্মা আমিন।